টোক ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শরিফ ওয়াহিদকে ঘিরে নানা অভিযোগ, গ্রেপ্তারের দাবি স্থানীয়দের
ইকবাল হোসেন কাপাসিয়া প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাবেক স্থানীয় নেতা শরিফ ওয়াহিদকে ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দাবি, গত আওয়ামীলীগ সরকারের সময় তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা, মামলা ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানিতে জড়িত ছিলেন। এলাকার বিএনপি নেতা কর্মিদের উপর চালিয়েছেন নির্যাতন। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচির বিরোধিতায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন শরিফ ওয়াহিদ। কাপাসিয়ার টোক ইউনিয়নে আন্দোলন কারিদের ব্যপক মারধর করেন। এবং তাদের বাড়ি ঘরে হামলা করেন।অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও দমন-পীড়নে তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে গেলেও শরিফ ওয়াহিদ এখনও এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অনলাইনের মাধ্যমে কাপাসিয়া আওয়ামী লীগ কে সংঘটিত করার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং দলকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন।
এছাড়া, স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সাবেক সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত শরিফ ওয়াহিদ দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে টোক ইউনিয়নে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে।
তবে শরিফ ওয়াহিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, শরিফ ওয়াহিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক এবং তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
Leave a Reply